জাতীয়

বিনামূল্যে তরঙ্গ দিলে মোবাইল অপারেটররা প্রণোদনা চাইবে

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
7 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দাম কমিয়ে তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) যদি বিনামূলেও বরাদ্দ দেওয়া হয় তখন মোবাইল অপারেটররা প্রণোদনা দেওয়ার দাবি তুলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। তিনি বলেন, দাম কমাতে কমাতে যদি একসময় স্পেকট্রাম বিনামূল্যেও দেওয়া হয়, তখন অপারেটররা হয়তো স্পেকট্রাম ব্যবহারের জন্য সরকারকে প্রণোদনা দেওয়ার দাবি তুলতে পারেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ: এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) রাজধানীর একটি হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আরও পড়ুন গোলটেবিল বৈঠক / স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতকে শুধু গ্রাহক বা অপারেটরের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না। বরং মানুষ, ব্যবসা ও সরকার- এই তিন পক্ষকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে তিনি টেলিযোগাযোগ খাতের সমস্যাকে ‘স্টেকহোল্ডার ট্রায়াঙ্গেল’ হিসেবে দেখার কথা বলে আসছেন। এই ত্রিভুজের তিনটি পক্ষ হলো- ‘পিপল, বিজনেস অ্যান্ড গভর্নমেন্ট’। এমদাদ উল বারী বলেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুটি বিষয় নিয়ে অভিযোগ করে আসছে- সেবার মান ও দাম। সেবার মান বলতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে কলড্রপ। তিনি বলেন, কোনো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী শতভাগ সঠিকভাবে পরিচালিত হলেও কলড্রপ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর পেছনে অসংখ্য কারিগরি কারণ থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মানদণ্ডেও নির্দিষ্ট মাত্রার কলড্রপ গ্রহণযোগ্য ধরা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে ১৮ কোটি মানুষের ২ শতাংশ প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ। ফলে যার কলড্রপ হচ্ছে, তার কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়াই স্বাভাবিক। তবে গত দুই বছরে দেশে কলড্রপের হার ১ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের মোবাইল ডেটার দাম তুলনামূলকভাবে কম উল্লেখ করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশের ডেটা মূল্য প্রায় এক-দশমাংশ। তবে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় দাম আরও কমানো প্রয়োজন। বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সাধারণত দুটি বিষয় বলা হয়- স্পেকট্রামের দাম বেশি ও অপারেটরদের গড় আয় বা এআরপিইউ কম। তবে বাংলাদেশে এআরপিইউকে উপযুক্ত সূচক হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তার মতে, ইউরোপের মতো তুলনামূলক কম জনসংখ্যার দেশে এআরপিইউ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু ১৮ কোটি মানুষের দেশে শুধু এআরপিইউ দিয়ে ব্যবসার বাস্তব চিত্র বোঝা কঠিন। এর পরিবর্তে মোট বা গ্রস রাজস্ব বিবেচনায় নেওয়া উচিত। চলমান ৮৫০ মেগাহার্টজ জিএসএম ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দের উদাহরণ তুলে ধরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, এই ব্র্র্যান্ডের প্রায় ৮ থেকে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অব্যবহৃত রয়েছে। এর মধ্যে রবি প্রায় সাড়ে ৩ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম চেয়েছে। প্রথমে ধারণা ছিল, অন্য কোনো অপারেটরের চাহিদা না থাকলে নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে সেটি দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু একাধিক অপারেটর আগ্রহ দেখানোয় নিলামের প্রয়োজন দেখা দেয়। আর নিলাম করতে হলে একটি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, স্পেকট্রামটি মাত্র প্রায় তিন বছরের জন্য দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এর মূল্য কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত স্পেকট্রাম ১৫ বছরের জন্য দেওয়া হয়। ফলে ১৫ বছরের বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার হিসাব এখানে প্রযোজ্য নয়। আরও পড়ুন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা / ৬ মাসে ৭ কোটি মানুষকে মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় আনা হবে ‘এ কারণে সরকারের কাছে প্রায় ১০ শতাংশ দাম কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত সিগন্যাল ব্যবহারে গুরুতর ইন্টারফেরেন্সের সমস্যা থাকায় ওই অংশের জন্য প্রায় ২৫ শতাংশ মূল্য কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।’ দাম ১০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাবে রাজস্ব হারাবে সরকার- এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, বিটিআরসি প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর সেখানে পুরোনো স্পেকট্রাম মূল্যের তুলনায় ১০ বা ২৫ শতাংশ দাম কমানো হলে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে- এমন যুক্তি সামনে এসেছে। পুরোনো দামের সঙ্গে তুলনা করে রাজস্ব কমার হিসাব করলেই কি সেটি প্রকৃত রাজস্ব ক্ষতি? কারণ নির্ধারিত দামে কেউ যদি স্পেকট্রাম না নেয়, তাহলে সরকার কোনো রাজস্বই পাবে না। তিনি বলেন, ‘এই দামে দিলে’ যে রাজস্ব পাওয়া যেতো, সেটিকে ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সেই দামে কেউ স্পেকট্রাম না নিলে সেটিও সরকারের জন্য ক্ষতি। অথচ পরে অডিটে আগের মূল্যের সঙ্গে তুলনা করে কম দামে স্পেকট্রাম বিক্রির কারণে সরকারের ‘অপরচুনিটি কস্ট’ বা সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। টিআরএনবি সভাপতি এস এম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, বাংলালিংকের সিইও ইওহান বুসে, টেলিকম বিশেষজ্ঞ নূরুল কবির, এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার। ইএইচটি/ইএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>