বিজ্ঞাপন
কুষ্টিয়ায় চলমান লোডশেডিংকে কেন্দ্র করে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কায় বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে আলাদা দুটি চিঠি দিয়েছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ।
তিনি জানান, সোম ও মঙ্গলবার এসব চিঠি দেওয়া হয়। চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
লোডশেডিংয়ের সমাধান নিয়ে মন্ত্রী বললেন, আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘দুটি চিঠি বুধবার সকালে দেখেছি। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। পুলিশ এরইমধ্যে নজরদারি করছে।’
বিদ্যুৎ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি করে। পাশাপাশি পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এসব স্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ওজোপাডিকো কুষ্টিয়া কার্যালয় থেকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বল্পতার কারণে সারাদেশের মতো কুষ্টিয়াতেও ব্যাপক হারে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সংকটময় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেপিআইভুক্ত স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনায় নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ও পুলিশি নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
ভয়াবহ লোডশেডিং, জনরোষ থেকে বাঁচতে বিদ্যুৎ অফিসের নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাহাঙ্গীর আলম সই করা চিঠিতে বলা হয়, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রায় তিন হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকাগুলোতেও এর তীব্র প্রভাব পড়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শিল্পকারখানা, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এতে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘লোডশেডিংয়ের কারণে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
আল-মামুন সাগর/এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন