বিজ্ঞাপন
সিলেট নগরীর রায়নগরে বাসায় ঢুকে স্বামী, স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রায়নগরের ওই বাসার পাশের একটি ঝোপ থেকে এই ছোরা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, উদ্ধার ছোরাটি দিয়েই তিনজনকে হত্যা করেন বাবুল। ওই ছোরায় রক্তও লাগানো ছিল। তবে এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরও কোনো মামলা করা হয়নি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির বলেন, ‘মামলার বিষয়ে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা সবাই প্রবাসে থাকায় বিলম্ব হচ্ছে। তবে নিহত দম্পতির একজন সন্তান দেশে ফিরেছেন। তিনি এখনো মরদেহের পাশে রয়েছেন। এজাহার দাখিল করলেই আটক বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার দেখি আদালতে তোলা হবে।’
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এসএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল মিয়া রায়নগরের একটি খালি জায়গায় ছোরাটি ফেলে দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় সেখানে খোঁজাখুঁজি করেও ছোরাটি পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিক নিয়ে ওই এলাকায় আবার তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন
সিলেটে ৩ খুন / গৃহকর্মীর সঙ্গে প্রেম, বাসায় ঢুকে ঝগড়ার সময় একে একে তিনজনকে হত্যা
তিনি বলেন, ‘আমরা ছোরাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠাব। ছোরায় থাকা রক্তের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তের নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে। এর মাধ্যমে কার রক্ত সেখানে রয়েছে, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
উপ-পুলিশ কমিশনার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর ছোরাটি ধুয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণে ধারণা পাওয়া গেছে। বাসার বেসিন ও হাত ধোয়ার স্থানে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ছোরার ধাতব অংশেও শুকনো রক্তের দাগ রয়েছে। এছাড়া একটি ব্যাগেও রক্তের দাগ পাওয়া গেছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া যে ধরনের ছোরার কথা বলেছিলেন, উদ্ধার করা ছোরাটির সঙ্গে তার মিল রয়েছে। বাবুল মিয়া রংমিস্ত্রির পাশাপাশি কসাইয়ের কাজ করেন। কসাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি সাধারণত শক্ত ও মজবুত হয় বলেও জানান তিনি।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমের সম্পর্ক নাকি সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া জানিয়েছেন, রং করার কাজ করতে গিয়ে নিহত গৃহকর্মীর সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। তাদের মধ্যে সম্পর্কটি প্রেমের পর্যায়ে গিয়েছিল কি-না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।
এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নগরীর রায়নগর এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ওই বাসার বাসিন্দা ও বিয়ানীবাজার আখাজনা এলাকার মৃত আবরু মিয়ার ছেলে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।
হত্যাকাণ্ডের চার ঘণ্টার মাথায় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্ত রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা এবং মৃত নুর মিয়ার (কবিরাজ) ছেলে বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ। আটকের পর তিনি পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার অভিযানে নামে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকেই এই ছোরা উদ্ধার করে পুলিশ।
জামিল আহমেদ/এসআর
বিজ্ঞাপন