বিজ্ঞাপন
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পূর্ব আকলম দাখিল মাদরাসায় শিক্ষক ছিলেন ১৫ জন। এর বিপরীতে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র পাঁচজন। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সেই পাঁচজনের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিও। মাদরাসায় ১৫ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা দুই শতাধিক। মাদরাসাটি এমপিওভুক্তির জন্য আবেদনও করেছে। এরপরও দাখিল পরীক্ষায় পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস না করায় অভিভাবক ও মাদরাসার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলেও ঠিকমতো পড়ত না, মাদরাসাও ঠিকমতো লেখাপড়া করায়নি। স্যাররা নিয়মিত আসতেন না। তারা যদি আরেকটু গাইড করতেন, তাহলে ভালো ফল করতে পারত।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাদরাসাটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো নন-এমপিও। এ বছর পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউই পাস করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, মাদরাসা এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন হয় না। এ কারণে কখনো কখনো শিক্ষকেরা অনুপস্থিত থাকতেন। ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ। মাদরাসা এমপিওভুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করি।
মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু এই মাদরাসার নয়, নেছারাবাদে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে সামগ্রিকভাবে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ২১টি মাদরাসা থেকে ৫৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩০৯ জন। গড় পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এর মধ্যে আটটি মাদরাসার পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। আর এ প্লাস পেয়েছেন ২২ জন।
আরও পড়ুন
১৮ শিক্ষকের মাদরাসায় ১৬ পরীক্ষার্থী, সবাই ফেল
সামগ্রিক ফলাফলের বিপরীতে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফল উদ্বেগজনক। এর মধ্যে পাটিকেলবাড়ী দরগাহ শরীফ মাদরাসা থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন মাত্র দুজন। নেছারাবাদ মোজাদ্দেদিয়া মাদরাসা থেকে ১১ জনের মধ্যে পাস করেছেন দুজন। গাজীপুর মৈশানী হারুন অর রশিদ ফাজিল মাদরাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে পাস করেছেন পাঁচজন।
এ ছাড়া বিন্না নেছারিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৬ জনের মধ্যে সাতজন, আউরিয়া হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ৩৪ জনের মধ্যে নয়জন, মাহমুদকাঠি দাখিল মাদরাসা থেকে ২৭ জনের মধ্যে ১২ জন, হজরত রাবেয়া বসরি (রহ.) মহিলা দাখিল (আমিরহাজী) মাদরাসা থেকে ১৬ জনের মধ্যে পাঁচজন এবং গুয়ারেখা রাব্বানিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে সাতজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। সবচেয়ে হতাশাজনক ফল হয়েছে পূর্ব আকলম দাখিল মাদরাসায়।
নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও ফলাফল খারাপ হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, তাদের কাছে চিঠির মাধ্যমে কারণ জানতে চাওয়া হবে।
মো. তরিকুল ইসলাম/এসজেডএইচ/এএসএম
বিজ্ঞাপন