বিজ্ঞাপন
আনা মারিয়া মার্কোভিচ। যাকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দীর ফুটবলার। তবে ফুটবল ক্যারিয়ারে নতুন মোড় তৈরি করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন ফুটবল ক্লাব থেকে চলে এলেন নিজের জন্ম শহরে। সেখানে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন তিনি। এক সময় ফুটবল নয়, ব্যবসায়িক পরিচয়ই বড় হয়েছিল যার জীবনে, তিনি এখন আবার সব ছেড়ে-ছুড়ে চলে এলেন পুরো ফুটবল দুনিয়ায়।
সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ক্রোয়েশিয়ান এই তারকা এবার পাড়ি জমিয়েছেন নিজের শিকড়ের কাছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন এফসি ছেড়ে তিনি যোগ দিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হাইদুক স্প্লিটে।
২৬ বছর বয়সে দেশে ফেরার এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্লাব বদলের গল্প নয়, বরং চোট, পুনর্বাসন, দেশ পরিবর্তন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিপুল জনপ্রিয়তা পেরিয়ে আবারও মাঠের খেলায় নিজেকে প্রমাণ করার নতুন সুযোগ।
হাইদুকে যোগ দেওয়ার পর মার্কোভিচের উচ্ছ্বাসও ছিল স্পষ্ট। মায়ের পরিবারের শিকড় স্প্লিট শহরে। ফলে এই শহরে ফিরে আসা তার কাছে আবেগেরও। নতুন ক্লাবে পরিচয়পর্বে তিনি বলেছেন, ‘আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।’
হাইদুকে মার্কোভিচ পরবেন ২৩ নম্বর জার্সি। আক্রমণভাগে তার লক্ষ্য শুধু নতুন ক্লাবকে সাফল্য এনে দেওয়া নয়, নিজের ক্যারিয়ারকেও নতুন করে গড়ে তোলা।
মার্কোভিচের নাম অবশ্য শুধু ফুটবল মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে পরিচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিপুল জনপ্রিয়তা তাকে নারী ফুটবলের অন্যতম আলোচিত মুখে পরিণত করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী ফুটবলার’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। যদিও এমন পরিচয়ের আড়ালে তার ফুটবলীয় পরিচয় অনেক সময় চাপা পড়ে যায়।
ক্রোয়েশিয়ার জাতীয় দলের এই ফুটবলার জন্মেছেন সুইজারল্যান্ডে। সেখানেই ফুটবলে তার পেশাদার যাত্রার শুরু। পরবর্তী সময়ে পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রেও খেলেছেন তিনি। এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়ার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও তার জনপ্রিয়তা ক্রমেই বেড়েছে।
তবে ২০২৩ সালে তার ক্যারিয়ারে আসে বড় ধাক্কা। গুরুতর হাঁটুর চোটে পড়েন মার্কোভিচ। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। চোটের কারণে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। অনেক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই এমন চোট আত্মবিশ্বাস ও ক্যারিয়ারের গতি থামিয়ে দেয়। মার্কোভিচের ক্ষেত্রেও পথটা সহজ ছিল না।
কিন্তু মাঠের বাইরে থাকলেও ভক্তদের কাছ থেকে দূরে সরে যাননি তিনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নিজের সঙ্গে সমর্থকদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। পুনর্বাসনের বিভিন্ন মুহূর্তও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। ফলে মাঠে না থেকেও তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।
ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছেছে। নারী ফুটবলের বড় বড় লিগের বাইরেও তার নাম পরিচিত হয়ে ওঠে। ফুটবলার হিসেবে পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক উদ্যোগেও নিজেকে যুক্ত করেছেন তিনি। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে মার্কোভিচের পরিচয় শুধু একজন ফুটবলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যবসায়িক জগতেও তৈরি হয়েছে তার আলাদা অবস্থান।
তবে এবার সেই জনপ্রিয়তাকে মাঠের পারফরম্যান্সে রূপ দেওয়ার পালা। হাইদুক স্প্লিটে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে মার্কোভিচ আবারও ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলের কেন্দ্রে ফিরেছেন। ক্লাবটির জন্যও তার আগমন গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে তারা পাচ্ছে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ফুটবলার, অন্যদিকে মার্কোভিচের বিপুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনুসারী নতুন করে নারী ফুটবলের দিকে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
হাইদুকের জন্য সমীকরণটা তাই বেশ আকর্ষণীয়। মাঠে একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক ফুটবলার, আর মাঠের বাইরে বিপুল জনপ্রিয় একটি নাম- দুই দিক থেকেই লাভবান হতে পারে ক্লাবটি।
বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়ার নারী ফুটবলের জন্যও মার্কোভিচের প্রত্যাবর্তন নতুন আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তার জনপ্রিয়তার কারণে হাইদুকের নারী দলের ম্যাচ, খেলোয়াড় ও প্রতিযোগিতার প্রতি নতুন দর্শক আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোকে তিনি কতটা মাঠের সাফল্যে পরিণত করতে পারেন।
View this post on Instagram
A post shared by Ana Maria Marković (@anamxrkovic)
কারণ মার্কোভিচ নিজেও জানেন, জনপ্রিয়তা আর ফুটবলীয় সাফল্য এক জিনিস নয়। ‘সুন্দরী ফুটবলার’ হিসেবে আলোচনায় থাকা সহজ, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার তৈরি করতে হলে মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই শেষ কথা।
চোটের পর তার জন্য এই প্রত্যাবর্তন তাই বিশেষ অর্থ বহন করছে। নতুন ক্লাব, পরিচিত শহর, পরিবারের শিকড়ের কাছে ফেরা- সব মিলিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন তিনি।
একসময় সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছিল তার ফুটবলযাত্রা। এরপর পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র- বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে এবার ক্রোয়েশিয়ায় ফিরে এসেছেন। মাঝখানে এসেছে ভয়াবহ চোট, দীর্ঘ পুনর্বাসন এবং মাঠের বাইরে পাওয়া বিপুল খ্যাতি। এখন সেই সব অভিজ্ঞতাকে পেছনে ফেলে আবারও মাঠে নিজের গল্প লিখতে চান মার্কোভিচ।
হাইদুকের ২৩ নম্বর জার্সি তাই তার কাছে কেবল নতুন একটি নম্বর নয়। এটি শিকড়ে ফেরার প্রতীক, চোট কাটিয়ে ওঠার প্রতীক এবং নিজের ফুটবল পরিচয়কে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম কতটা আলোচিত, সেটি ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। এবার মার্কোভিচের সামনে আসল পরীক্ষা- মাঠে তিনি কতটা আলো ছড়াতে পারেন।
আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন