বিজ্ঞাপন
বেকারদের নিয়ে তামাশা করলে পরিণতি খারাপ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা।
তারা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বলছেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন পরিবর্তন দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মেধাশূন্য করার প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব এনটিআরসিএর কাছ থেকে নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার মাধ্যমে একটি দৃষ্টিকটু ও জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ ও ক্ষোভের মুখে হয়তো সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। নির্বাচিত সরকারের যাচ্ছেতাই সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেবো না।’
সরকারের ভেতরে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করে সানাউল্লাহ হক বলেন, তারা এমন সিদ্ধান্ত দিয়ে জনগণের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি করে সরকারকে বিপাকে ফেলতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বিদ্যুৎ সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের ব্যবস্থা করার আহ্বানও জানান সানাউল্লাহ হক। একই সঙ্গে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে তাকেও দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। সীমান্ত এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই দাবি করে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায় এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক বলেন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) যুক্ত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন
‘শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি’ দাবি মন্ত্রীর, নথিপত্রে ভিন্নকথা
তিনি আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে কোনো সংগঠনের দলীয় তৎপরতা চালানো উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের ব্যানার ব্যবহার করে কেউ যেন নিজেদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে না পারে, সে বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন সংগঠনটির এই নেতা। তিনি বলেন, হয় দাম বাড়িয়ে সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থা করতে হবে, নয়তো আগের দামে ফিরে যেতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহতাব শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে বলেন, ‘এটি দেশকে মেধাশূন্য করার প্রক্রিয়া। শিক্ষার্থীদের বিরোধিতার কারণে হয়তো সিদ্ধান্তটি থেকে সরে আসা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেকারদের নিয়ে তামাশা করবেন না। তামাশা করলে বেকাররা ফুঁসে উঠবে এবং তার পরিণতি খারাপ হবে।’
সরকার পরিচালনায় হঠকারী সিদ্ধান্ত না নিয়ে এনটিআরসিএর নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে লাঠিসোঁটা নিয়ে ছাত্রদলকে মেরেছে। শিবিরের উল্লাস দেখা গেছে। এরপরই আলিয়া মাদরাসা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, ছাত্রদল যদি এভাবে পেশিশক্তি প্রদর্শন করতে থাকে আর শিবিরের হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে ছাত্র অধিকার পরিষদ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের লাল কার্ড দেখাবে।’
একিউএফ/
বিজ্ঞাপন