বিজ্ঞাপন
কিছু রাত আসে, যখন চারপাশ একদম শান্ত থাকে, কিন্তু মাথার ভেতর হাজারটা চিন্তা চলতে থাকে। কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে একা বসে ফোনে পুরোনো ছবিগুলো দেখছিলাম। জার্মানি আসার প্রথম দিকের ছবি, প্রথম কাজের সময়ের ছবি, পুরোনো বন্ধুদের ছবি। একটা ছবিতে এসে অনেকক্ষণ আটকে গেলাম।
হুট করে মনে হলো- এই মানুষটা যদি আজকের আমাকে দেখতে পেত, সে হয়তো বিশ্বাসই করতে পারত না যে এতদূর আসতে পারবে। আমরা একটা অদ্ভুত ভুল করি। আজকে কোথায় আছি সেটা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি যে, কোথা থেকে শুরু করেছিলাম সেটা ভুলেই যাই।
আজ হয়তো আপনার কাজ আপনার পছন্দের না, আয় প্রত্যাশার মতো না, কিংবা নিজের ঘরবাড়ি তৈরি করতে পারেননি। মনে হতে পারে অন্যেরা অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু পাঁচ বছর আগের নিজের কথা ভাবুন তো?
আরও পড়ুন
রোমানিয়ায় বিদেশিকর্মী নিয়োগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু
আপনার জীবনে এমন অনেক কিছু আছে, যেগুলো একসময় অসম্ভব ছিল। যে ভাষাটা বুঝতেন না, আজ সেটার কিছুটা হলেও বোঝেন। যে কাজ করতে ভয় পেতেন, আজ তা সহজেই করছেন। ভিনদেশে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করেছেন—এগুলোও তো বড় অর্জন।
আমরা কেবল দৃশ্যমান বড় কিছুকেই সাফল্য মনে করি। কিন্তু প্রতিদিন সকালে উঠে নিজের দায়িত্ব পালন করা, পরিবারের পাশে থাকা, কঠিন সময়েও হাল না ছাড়া- এসবও জীবনের একেকটি বড় জয়। শুধু এগুলোর কোনো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা যায় না।
সেদিন একটা কাগজে লিখলাম- গত পাঁচ বছরে আমি কী কী শিখেছি, কী অর্জন করেছি এবং কোন কোন কঠিন পথ পার হয়ে এসেছি। তালিকাটা যত বড় হলো, ততই স্পষ্ট বুঝলাম- আমি আসলে থমকে যাইনি, আমি কেবল নিজের অর্জনগুলোকে খুব ছোট করে দেখছিলাম।
অন্যের জীবনের বিশতম অধ্যায়ের সঙ্গে নিজের পঞ্চম অধ্যায়ের তুলনা করে হতাশ হবেন না। আপনার গল্পের এখনও অনেক পৃষ্ঠা বাকি। আজকের এই অবস্থাটা আপনার জীবনের চূড়ান্ত ফলাফল নয়। কঠিন সময় মানেই খারাপ ভবিষ্যৎ নয়; বরং অনেক বড় পরিবর্তনের সূচনা হয় নীরব পথচলার মধ্য দিয়েই।
ধীরে এগোনো মানে পিছিয়ে থাকা নয়। আপনি যদি আজও চেষ্টা চালিয়ে যান, তবে আপনি লড়াইয়ে আছেন। যদি পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ান, তবে আপনার গল্প এখনও শেষ হয়নি।
এমআরএম
বিজ্ঞাপন