জাতীয়

শিল্পে স্বস্তি এলেও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শঙ্কা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
4 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
আগস্ট মাসের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি করা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে ওষুধ শিল্পে স্বস্তি এলেও দাম নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এতে অত্যাবশ্যকীয় তালিকা থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওষুধের নাম বাদ পড়বে। পাশাপাশি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার কর্তৃত্ব হারাবে। ফলে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিপাকে পড়বে সাধারণ মানুষ। আরও পড়ুন বাতিল হলো অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ১৯৯৪ সালের নীতিতে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় ওষুধের সংখ্যা ছিল ১১৭টি, যা ২০১৬ সালের নীতিতে বাড়িয়ে করা হয়েছিল ২৮৫টি। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা বাড়িয়ে করে ২৯৫টি। তালিকা নিয়ে সে সময়ই বিএনপির নেতিবাচক অবস্থান ছিল। সে সময় বিএনপি মহাসচিব মিরজা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওষুধ শিল্প ধ্বংসেরও অভিযোগ তোলেন। ফলে ১৭৮টি জরুরি ওষুধ আবার সরকারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। এতে ওষুধ কোম্পানিগুলো বেশ খুশি। ওষুধ মালিকদের সংগঠন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আগের মতোই ইচ্ছামতো এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। তবে এর খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। সরকারে এসে বিএনপি এবার সেই তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলো। এ নিয়ে সব মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন বলেন, ‘এসেনশিয়াল ড্রাগের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করতে অনেক সময় সরকারকেও হিমশিম খেতে হয়। সরকারি কর্মকর্তারা হাবুডুবু খান ওষুধ কোম্পানিগুলোর সাবমিট করা মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত মার্কআপ (মূল্যবৃদ্ধি বা মূল্যের ওপর সংযোজিত অংশ) এর বেড়াজালে। সেখানে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে কোম্পানিগুলো জনগণের ওপর কী চাপাতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।’ আরও পড়ুন ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন / অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে হারবাল-হোমিওপ্যাথিক এ সময় তিনি হার্টের রিংয়ের দাম ও এন্টারোজার্মিনা বা শিশুদের প্রোবায়োটিক নিয়ে কর্মজীবনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা কেউ ফেরেশতা নই। কাজেই এসেনশিয়াল ড্রাগের সংখ্যা সরকার বাড়াবে নাকি কমাবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে হাজারবার চিন্তা করা উচিত।’ তিন দশক আগে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীদের লড়াইয়েও এরকম চাওয়া হয়েছিল। তো, মুখে আমরা জাফরুল্লাহ চৌধুরীদের প্রশংসা করবো, নির্বাচনী ইশতেহারে জনস্বার্থে বহু কিছু করার কথা শোনাবো, আর নীতিনির্ধারণের সুযোগ পেলে কাজ করব ওষুধ কোম্পানিগুলোর পক্ষে? দোহাই দেব ‘ওষুধ শিল্পের উন্নতি’র। জনস্বার্থের সঙ্গে মোটাদাগের বেইমানি এগুলো। লেখক ও প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা এ নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, ‘ওষুধ কোম্পানির স্বার্থটাই দেখল বিএনপি সরকার। সাত মাস আগে ইন্টেরিম সরকার জরুরি ওষুধের তালিকাটা বড় করেছিল। ১১৭ থেকে বাড়িয়ে করেছিল ২৯৫। কথা ছিল এসব ওষুধ সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বিক্রি করতে হবে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসারসহ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ ছিল এই তালিকায়। কিন্তু ৩ আগস্ট সরকার সেই তালিকাই বাতিল করে দিয়েছে। ফলে ১৭৮টি জরুরি ওষুধ আবার সরকারের মূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। এতে ওষুধ কোম্পানিগুলো বেশ খুশি। ওষুধ মালিকদের সংগঠন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আগের মতোই ইচ্ছামতো এসব ওষুধের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। তবে এর খেসারত দিতে হবে সাধারণ মানুষকে।’ আরও পড়ুন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত, সাশ্রয়ী হবে সুচিকিৎসা তিনি বলেন, ‘দেশে চিকিৎসা ব্যয়ের ৮০ শতাংশই সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যায়। এর দুই ভাগের তিন ভাগই যায় ওষুধ কিনতে। সেই ১৯৯৪ সালে ১১৭টি ওষুধের তালিকা করা হয়েছিল। এরপর বাজারে জরুরি আরও অনেক ওষুধ এসেছে। সেগুলোর দামের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এ কারণেই জরুরি ওষুধের তালিকা বড় করাটা প্রয়োজন ছিল। সরকার বলছে, নতুন তালিকা তৈরির সময় জাতীয় ওষুধ পরামর্শক কাউন্সিলের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হয়নি। কিন্তু সেই কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ না করেই সরকার নতুন তালিকাটি বাতিল করেছে। অথচ সরকার চাইলে কাউন্সিলের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারতো। প্রয়োজনে তালিকাটি সংশোধন করতে পারত। কিন্তু সেটি না করে পুরো তালিকাটিই বাতিল করে দিল। এখন বলা হচ্ছে, নতুন করে জরুরি ওষুধের তালিকা করা হবে। কবে হবে, তা অবশ্য বলা হয়নি। যতদিন তা না হবে, ওষুধ কোম্পানিগুলোরই সুবিধা। এতে স্পষ্ট হয়ে গেল বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের চেয়ে ওষুধ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষাটাই প্রধান।’ ওষুধ শিল্পে স্বস্তি এলেও দাম নিয়ে জনমনে শঙ্কা: ছবি এআই লেখক ও প্রাবন্ধিক আলতাফ পারভেজ ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘বিগত আমলে সরকার অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ১১৭ থেকে ২৯৫-এ উন্নীত করেছিল। এই ওষুধগুলোর দাম সরকার নির্ধারণ করার কথা। এখন আবার তালিকাটা কাটছাঁট হবে। অথচ উচ্চ আদালতের রায় ছিল, কেবল অত্যাবশ্যকীয় ওষুধগুলো নয়, ৭৩৯টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করবে সরকার। তিন দশক আগে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীদের লড়াইয়েও এরকম চাওয়া হয়েছিল। তো, মুখে আমরা জাফরুল্লাহ চৌধুরীদের প্রশংসা করবো, নির্বাচনী ইশতেহারে জনস্বার্থে বহু কিছু করার কথা শোনাবো, আর নীতিনির্ধারণের সুযোগ পেলে কাজ করব ওষুধ কোম্পানিগুলোর পক্ষে? দোহাই দেব ‘ওষুধ শিল্পের উন্নতি’র। জনস্বার্থের সঙ্গে মোটাদাগের বেইমানি এগুলো।’ আরও পড়ুন সব হাসপাতালে হচ্ছে সরকারি ফার্মেসি, কম দামে মিলবে ২৫০ রকম ওষুধ বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক ব্যর্থতার মধ্যেও জীবন রক্ষাকারী ওষুধের তালিকাটা সময়োপযোগী করেছিল। আপনি নির্বাচিত হয়ে সেটা বাতিল করেছেন। গণবিরোধী অবস্থান বদলান, না হয় মানুষ আপনাদের বদলে দেবে।’ নতুন লিস্ট করা হবে। সে কারণে বাতিল করতে হয়েছে। যে আইন অনুযায়ী কাজটা হয়, সেখানে দুই বছর পরপর এই লিস্টটা আপডেট হওয়া দরকার এবং দীর্ঘদিন লিস্টটা আপডেট হয়নি। আর অন্তর্বর্তী সরকার যে কাজটা করেছিলেন, এখানে প্রসিডিউরাল (প্রক্রিয়াগত) ভুল ছিল। ড্রাগ অ্যাডভাইজরি কমিটির মাধ্যমে এটা হওয়ার কথা, সেই সময় এই কমিটি তারা করেননি, কমিটি ছিল না। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকার সুফল কী সাধারণ মানুষ পাচ্ছে? তালিকায় থাকা অনেক ওষুধই বাজারে নিয়মিত পাওয়া যায় না। কারণ এসব ওষুধের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণে সরকারি তদারকি যথেষ্ট কার্যকর নয়। ফলে বাজারে তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া যায় একই জেনেরিকের বিভিন্ন ‘মিশ্র’ বা অতিরিক্ত ফর্মুলেশনের ব্র্যান্ড। যেমন- নাপার চেয়ে নাপা এক্সট্রা, নাপা ওয়ান বা নাপা এক্সটেন্ড; আবার এইসের চেয়ে এইস প্লাস চিকিৎসকদের প্রেসক্রিপশনে বেশি দেখা যায়। বাজারেও এসব ওষুধের উপস্থিতি বেশি। এই দেশে আসলে পরিবর্তন অসম্ভব...।’ আরও পড়ুন ৪৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কমলো হার্টের রিংয়ের দাম যদিও এ নিয়ে সরকারের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন লিস্ট করা হবে। সে কারণে বাতিল করতে হয়েছে। যে আইন অনুযায়ী কাজটা হয়, সেখানে দুই বছর পরপর এই লিস্টটা আপডেট হওয়া দরকার এবং দীর্ঘদিন লিস্টটা আপডেট হয়নি। আর অন্তর্বর্তী সরকার যে কাজটা করেছিলেন, এখানে প্রসিডিউরাল (প্রক্রিয়াগত) ভুল ছিল। ড্রাগ অ্যাডভাইজরি কমিটির মাধ্যমে এটা হওয়ার কথা, সেই সময় এই কমিটি তারা করেননি, কমিটি ছিল না। একটা টাস্কফোর্সের মাধ্যমে করা হয়েছিল। সেই প্রসিডিউরাল ভুলের কারণে ওটাকে বাতিল করে এখন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ওই নিয়ম অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী দেখে নতুন এসেনশিয়াল ড্রাগস লিস্ট তৈরি করা হবে।’ এসইউজে/এসএইচএস
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>