বিজ্ঞাপন
প্রশ্ন: মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা কি জায়েজ?
উত্তর: আখেরাতের স্মরণ, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা ও শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে নবী, সাহাবি, ওলিসহ যে কোনো মুসলমানের কবর বা মাজার জিয়ারত করা এবং কবর জিয়ারতের জন্য সফর করা জায়েজ।
শর্ত হলো, কোনো কুফরি বা শিরকি বিশ্বাস পোষণ করা যাবে না এবং কবরে গিয়ে কোনো শিরকি বা শরীয়তবিরোধী কাজ করা যাবে না। আমাদের সমাজে এক শ্রেণির মানুষ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বা মনের কোনো ইচ্ছা পূরণ হবে এই বিশ্বাস থেকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে পীর-দরবেশদের কবর জিয়ারত করতে যায়। কবর জিয়ারতের নামে কবরকে সিজদা, মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা, কবরের তাওয়াফ ইত্যাদি শিরকি ও কুফরি কাজে লিপ্ত হয়। এ ধরনের শিরকি বিশ্বাস বা কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে কবর জিয়ারত করা বা সেজন্য সফর করা জায়েজ নয়।
কবর জিয়ারতের দোয়া
কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরবাসীকে সালাম দিয়ে দোয়া করতেন। সাহাবিদেরও তিনি সালাম দিয়ে দোয়া করতে শিখিয়েছেন। বুরায়দাহ (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবরস্থানে গেলে পড়তে শিখিয়েছেন এ দোয়াটি:
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَلَاحِقُونَ نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ
উচ্চারণ: আসসালামু আলায়কুম আহলাদ দিয়ারি মিনাল মুমিনীনা ওয়াল মুসলিমীনা ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লালাহিকূনা নাসআলুল্লাহা লানা ওয়ালাকুমুল আফিয়াহ
অর্থ: হে কবরবাসী মুমিন ও মুসলিমগণ! তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ অবশ্যই আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হচ্ছি। আমরা আমাদের ও তোমাদের জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। (সহিহ মুসলিম: ৯৭৫)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনার কবরস্থান হয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় তাদের দিকে মুখ করে বললেন:
السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ
উচ্চারণ: আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবূরি ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আসারি।
অর্থ: হে কবরবাসী, তোমাদের ওপর শান্তি বৰ্ষিত হোক। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করে দিন, (পরকালের যাত্রায়) তোমরা আমাদের আগে গেছ আর আমরাও তোমাদের অনুসরণ করবো। (সুনানে তিরমিজি: ৫৯৬)
কবর জিয়ারতে গিয়ে যে কাজগুলো থেকে বিরত থাকবেন
কবরস্থানে গেলে শরিয়তের বিধিনিষেধগুলো মনে রাখতে হবে। কবরস্থানে গিয়ে কবরে সেজদা করা, কবরে থাকা ওলি বা দরবেশের কাছে কিছু চাওয়া, কবরে থাকা ব্যক্তির জন্য প্রাণী উৎসর্গ করা ইত্যাদি শিরক ও গর্হিত পাপ। এ ছাড়া কবরস্থানে আরও কিছু কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে বিভিন্ন হাদিসে। এর মধ্যে কয়েকটি হলো:
১. কবরের ওপর বসা
কবরের ওপর বসা নিষেধ। এটা আদবের খেলাফ। রাসুল (সা.) বলেছেন, কবরের ওপর বসার চেয়ে উত্তম হলো আগুনের ওপর বসা যে আগুন কাপড় পুড়িয়ে দিয়ে চামড়া পর্যন্ত জ্বালিয়ে দেবে। (মুসলিম: ৯৭১)
২. কবরের ওপর জুতো পরে হাঁটাহাঁটি করা
কবরের ওপর জুতো পরে হাঁটাহাঁটি করা নিষিদ্ধ। বশির ইবনে খাসাসিয়া (রা.) বলেন, আমি একবার রাসুলের (সা.) সাথে হাঁটছিলাম। তিনি মুসলমানদের একটি কবরস্থানে গিয়ে বললেন, এরা বহু মন্দ কাজ পরিত্যাগে অগ্রগামী হয়েছে, তারপর মুশরিকদের একটি কবরস্থানে গিয়ে বললেন, এরা বহু মঙ্গলময় কাজ পরিত্যাগে অগ্রগামী হয়েছে। তারপর তিনি অন্যদিকে লক্ষ্য করে দেখলেন, এক ব্যক্তি জুতা পায়ে কবরস্থানের মাঝখানে হাটাহাটি করছে। তিনি বললেন, হে জুতা পরিধানকারী, জুতা ফেলে দাও। (সুনানে নাসাঈ: ১০৭)
৩. কবরের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করা
কবরের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা কবরের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করবে না এবং কবরের ওপর বসবেও না। (সহিহ মুসলিম: ৯৭২)
৪. কবরস্থানে পশু জবাই করা
জাহেলি যুগে আরবরা কবরে পশু জবাই করতো। নবিজি (সা.) কবরে এ রকম পশু জবাই করতে নিষেধ করেন। (আবু দাউদ: ৩,২২২)
৫. কবরস্থানে হাসি-তামাশা করা
কবরস্থানে গিয়ে হাসি-তামাশা ও উল্লাস করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবর বানিয়ো না এবং কবরগুলোকে উৎসবের জায়গা বানিয়ো না।’ (আবু দাউদ: ২,০৪২)
ওএফএফ
বিজ্ঞাপন