ব্রেকিং নিউজ
ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা রোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত রাখতে চায় না বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা পেজেশকিয়ানের, ট্রাম্পকে আলোচনার বার্তা উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ৪ দিনের রিমান্ডে এবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হলেন সাইবার বুলিংয়ের শিকার সিলেটের সেই বিউটি রানী পাল রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর আজমুল হত্যায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, তিন আসামির স্বীকারোক্তি ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে প্রতারণা: কুয়াকাটায় রাসেলের এক বছরের কারাদণ্ড তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতবিনিময় সভা কুমিল্লা মহাসড়কে ৪ গাড়ির সংঘর্ষ
জাতীয়

পানির নিচে কাটবে সাঁতার-উড়বে আকাশে! এমআইটির নতুন রোবট

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
5 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
মানুষের মতো নয়, পাখির অনুকরণে তৈরি এমন এক রোবট তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (MIT) গবেষকরা, যা একই সঙ্গে আকাশে উড়তে ও পানির নিচে সাঁতার কাটতে সক্ষম। ভবিষ্যতে সমুদ্র পর্যবেক্ষণ, বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন তারা। এমআইটির একটি গবেষণাগার মাত্র ৩০০ ডলার ব্যয়ে এমন একটি ডানা ঝাপটানো রোবট তৈরি করেছে, যা আকাশে উড়তে পারে আবার পানির নিচেও চলাচল করতে পারে। রোবটটির নির্মাতা মনে করেন, একদিন এই হালকা ওজনের রোবট সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। রোবটটি তৈরির আগে গবেষক দল পেট্রেল, পাফিনসহ বিভিন্ন ডুবুরি পাখির আচরণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে। এসব পাখি একই ডানা ব্যবহার করে আকাশে ওড়ে ও পানির নিচে সাঁতার কাটে। পাশাপাশি তারা কীভাবে বাতাস ও পানির মধ্যে নির্বিঘ্নে চলাচল করে, সেই জটিল গতিশীলতাও গবেষণা করা হয়। গবেষণার প্রধান লেখক ও এমআইটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাফায়েল জুফেরে বলেন, ডুবুরি পাখির ডানা কীভাবে ওড়ে ও সাঁতার কাটে, সে বিষয়ে আগেও গবেষণা হয়েছিল। তবে সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ কার্যকর একটি রোবটে রূপ দিতে আগে কেউ সফল হননি। গবেষকরা ডুবুরি পাখি নিয়ে প্রকাশিত প্রায় সব বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিশ্লেষণ করেন। তারা বাতাস ও পানিতে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ডানা ঝাপটানোর গতি এবং ডানার বিস্তারের সঙ্গে তার সম্পর্ক নির্ণয় করেন। গবেষণায় দেখা যায়, পাখি যত বড় হয়, তার ডানা ঝাপটানোর হার তত কম হয়। এই তথ্যের ভিত্তিতে তারা ২৫০ গ্রাম ওজনের একটি ফ্ল্যাপিং এরিয়াল-অ্যাকুয়াটিক ভেহিকল তৈরি করেন। ব্যাটারিচালিত মোটর দিয়ে চালিত এই রোবটের ডানা নাইলনের তৈরি ও এর লেজে পানি প্রতিরোধী ন্যানোপার্টিকেলের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। প্রথম দেখায় এটি পুরোপুরি প্রাণীর অনুকরণে তৈরি বলে মনে হলেও রাফায়েল জুফেরে বলেছেন, এটি সরাসরি ‘বায়োমিমিক্রি’ নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাতাসের তুলনায় পানি কয়েকশ গুণ বেশি ঘন। ডুবুরি পাখি পানির নিচে গেলে তাদের ডানা আংশিক ভাঁজ হয়ে যায়। এতে ডানার ওঠানামার বিস্তার কমে, পানির প্রতিরোধও হ্রাস পায় ও সামনের দিকে এগোনোর জন্য প্রয়োজনীয় বল তৈরি হয়। রোবটে একই ব্যবস্থা করতে হলে আরও চারটি জয়েন্ট, জটিল প্রকৌশল নকশা ও অতিরিক্ত ওজন যুক্ত করতে হতো। তাই গবেষকরা ভাঁজ না হওয়া, কিন্তু ডুবুরি পাখির ডানার চেয়ে বেশি নমনীয় একটি ডানা তৈরি করেছেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডানার ওঠানামার বিস্তার কমিয়ে দেয়। জুফেরে বলেন, এই রোবট বুঝতে পারে না যে এটি বাতাসে রয়েছে নাকি পানিতে। এটি শুধু প্রতি সেকেন্ডে নির্ধারিত সংখ্যক ডানা ঝাপটানোর নির্দেশ অনুসরণ করে। সে যেখানেই থাকুক, একই প্রোগ্রাম অনুসারেই কাজ করে। রোবটটি ঘণ্টায় প্রায় ২১ দশমিক ৬ কিলোমিটার (প্রতি সেকেন্ডে ৬ মিটারের কিছু বেশি) গতিতে উড়তে পারে। আবার পানির নিচে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ মিটার গতিতে সাঁতার কাটতে সক্ষম। তাত্ত্বিকভাবে একবার ব্যাটারি চার্জে এটি প্রায় ৬ কিলোমিটার উড়তে কিংবা প্রায় ২ কিলোমিটার সাঁতার কাটতে পারবে। তবে এখনো বাস্তবে সেই দূরত্ব পরীক্ষা করা হয়নি। গবেষকরা এক বছর ধরে ম্যাসাচুসেটসের একটি পানির ট্যাংকে ও পরে সুইজারল্যান্ডের লেক জেনেভায় রোবটটির পরীক্ষা চালান। পরীক্ষার বড় অংশজুড়ে পানিতে প্রবেশের সবচেয়ে কার্যকর কোণ (৭০ ডিগ্রি) ও পানির নিচ থেকে আবার আকাশে ওঠার উপযুক্ত কৌশল নির্ধারণ করা হয়। রাফায়েল জুফেরে জানান, বর্তমানে রোবটটি হালকা ঢেউ ও বাতাসে কাজ করতে পারে। তবে তীব্র ঢেউ বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এটি এখনো কার্যকর নয়। গবেষণায় যুক্ত না থাকা যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ওশেনোগ্রাফি সেন্টারের প্রকৌশলবিজ্ঞান পরিচালক ম্যাটেন ফারলং বলেন, প্রকৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সত্যিই একটি অসাধারণ নকশা। তার ভাষায়, এমন একটি যান তৈরি করা, যা একই সঙ্গে বাতাস ও পানিতে সমান দক্ষতার সঙ্গে চলতে পারে, অত্যন্ত কঠিন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। সেই দুই ধরনের সক্ষমতাকে একসঙ্গে সফলভাবে যুক্ত করা উল্লেখযোগ্য প্রকৌশল অর্জন। প্রাথমিক সাফল্যের পর এখন এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে গবেষণার অনুদান ও অন্যান্য অর্থায়নের চেষ্টা করছে এমআইটির গবেষণাগার। সূত্র: সিএনএন এসএএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>