জাতীয়

স্কুলব্যাগ-পরনের কাপড়ের মাঝে আজও মারুফকে খুঁজে ফেরেন মা মোর্শেদা

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শেষে বিজয় মিছিলে গুলিতে শহীদ হন মারুফ মিয়া ১৪)। এরপর কেটে গেছে দুই বছর। অথচ আজও বিচার পায়নি মারুফের পরিবার। দেওয়া হয়নি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট)। দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে পরিবার। টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবালিয়া এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে মারুফ মিয়া। তার বাবা একজন প্রবাসী। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মারুফ বড় ছিলেন। আরও পড়ুন ‘আমার ছেলের চিঠিটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক’ পরিবার সূত্র জনায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট টাঙ্গাইলে জুলাই আন্দোলন শেষে বিজয় মিছিল চলছিল। ঠিক তখনই শহরের মেইন রোডে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন দশম শ্রেণির ছাত্র মারুফ। এ ঘটনায় একই বছরের ১৮ আগস্ট নিহতের মা মোর্শেদা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট টাঙ্গাইলে জুলাই আন্দোলন শেষে বিজয় মিছিল চলছিল। ঠিক তখনই শহরের মেইন রোডে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন দশম শ্রেণির ছাত্র মারুফ। এ ঘটনায় একই বছরের ১৮ আগস্ট নিহতের মা মোর্শেদা বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়’ টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ায় ছোট্ট একটা টিনের ঘরে মারুফের পরিবারের বসবাস। সরেজমিন দেখা যায়, এখনো ছেলের ছবি নিয়ে কান্না করেন মা মোর্শেদা বেগম। আদরের সন্তানের স্কুলব্যাগ, পরনের কাপড়, জুতা আর পারিবারিক ছবি আগলে রেখে তার দিন কাটে। এসব কিছুর মধ্যেই ছেলে মারুফকে খুঁজে চলেছেন তিনি। ভাইয়ের কথা স্মরণ করতেই বোন সানজিদা আক্তারের চোখ ছলছল করতে দেখা যায়। দুই ভাই বোনের মধ্য মারুফ বড়। বাবা একজন প্রবাসী। আরও পড়ুন দোয়া মাহফিলে জুলাই যোদ্ধাদের মারতে তেড়ে গেলেন বিএনপি নেতারা খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারুফের স্মৃতিকে ধরে রাখতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্দেশনায় ‘টাঙ্গাইল জেলা স্টেডিয়াম’ এর নাম পরিবর্তন করে ‌‘শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম’ নামকরণ করা হয়েছে। শহীদ মারুফের মা মোর্শেদা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি মারুফের ছবি দেখতে পারি না। আমার বুকের ধন একমাত্র ছেলে মারুফ আগস্টের ৪ তারিখে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ছবি তুলেছে। পরের দিনই বিজয় মিছিলে শহীদ। এটা আমি সহ্য করতে পারি না। আমি টাকা-পয়সা কিছুই চাই না। চাই শুধু ছেলে হত্যার বিচার।’ ‘জেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন ২৭০ জন। ৯ জন শহীদ হয়েছেন। এ ৯ জনের মধ্যে দুজন জেলায় শহীদ, বাকিরা অন্য জেলায় শহীদ হন। জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের পাশে যেন সরকার সব সময়ই পাশে থাকে, আমরা সেই আহ্বান করছি’ আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘দুই বছরেও আমার ছেলে হত্যার বিচারের চার্জশিট দেওয়া হয়নি। নানা টালবাহানা চলছে। আমি দ্রুত সব হত্যার বিচার চাই।’ আরও পড়ুন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ভাই হত্যার বিচার চেয়ে বোন সানজিদা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি আমার ভাইকে অনেক ভালোবাসি। আমার ভাই এভাবে চলে যাবে আমরা কল্পনাও করেনি। আমি আমার ভাইকে হত্যার বিচার চাই। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক কামরুজ্জামান শাওন বলেন, ‘মারুফ হত্যা মামলার চার্জশিট এখনো দেওয়া হয়নি। সরকারের কাছে দাবি করছি, যেন দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হয়।’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার আহ্বায়ক আল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘জেলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন ২৭০ জন। ৯ জন শহীদ হয়েছেন। এ ৯ জনের মধ্যে দুজন জেলায় শহীদ, বাকিরা অন্য জেলায় শহীদ হন। জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের পাশে যেন সরকার সব সময়ই পাশে থাকে, আমরা সেই আহ্বান করছি।’ আরও পড়ুন জুলাই যোদ্ধা মিতুর খোঁজখবর নিলেন প্রধানমন্ত্রী মামলায় অনেক আসামি থাকায় তাদের নাম-পরিচয় যাচাই-বাছাই করতে একটু সময় লাগছে বলে জানান টাঙ্গাইল জজ কোর্টের পিপি শফিকুল ইসলাম রিপন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার এই মামলারগুলোর অবশ্যই বিচার হবে। তবে বিচারে যেন কোনো নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে। এসআর/এএসএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>